জন্টি রোডস : ফিল্ডিংয়ের অবিসংবাদিত মহানায়ক

বিশ্বকাপ ১৯৯২। পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ চলছিল। ম্যাচ এগিয়ে যাচ্ছিল ম্যাচের গতিতেই। সে ম্যাচে এমন এক কাণ্ড করলেন প্রোটিয়া ফিল্ডার জন্টি রোডস, পুরো বিশ্ব বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে দৌড়ে ইনজামাম উল হককে রান আউট করেন তিনি। যে আউটটা বিশ্বাস করতে আজও চোখ কচলায় ক্রিকেট দুনিয়া।

ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়ে আসার পর মহেন্দ্র সিং ধোনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নড়েচড়ে বসেছিল গোটা ক্রিকেট দুনিয়া। অধিনায়ক হওয়ার পর দল থেকে বাদ দেন সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো নামজাদা ব্যাটসম্যানদের। ধোনির যুক্তি ছিল, ব্যাটার হিসেবে তারা কিংবদন্তি। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু, ফিল্ডিংয়ে তারা দলকে ভোগাবে। ভালো ফিল্ডিং আপনাকে ম্যাচ জেতাবে। ধোনির অকাট্য যুক্তি ফেলে দিতে পারেনি কেউই।

ভারত ক্রিকেট দলটার দিকে তাকালে বর্তমানে ধোনির সেই বিপ্লবকে ফেলে দেওয়া যায় না। আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটিং বোলিং যতটা গুরুত্বপূর্ণ, একটা দলের জন্য ফিল্ডিং ততটাই গুরুত্ব রাখে। ভারতের জাদেজা, কোহলিদের বিশ্বমানের ফিল্ডিং প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের কমপক্ষে ৩০ রান আটকে দেন। তবে, ফিল্ডিংয়ের এই দুরন্ত থিউরি এসেছে যার কাছ থেকে তিনি কোনো ভারতীয় নন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি জন্টি রোডস। যাকে ক্রিকেট বিশ্ব চিরদিন মনে রাখবে ফিল্ডিংয়ের জন্য। উড়ন্ত ফিল্ডিংয়ে ক্রিকেটকে যা দেখিয়েছেন তিনি, তা কখনো ভোলার মতো নয়।

শর্ট পয়েন্ট অঞ্চলে দাঁড়িয়ে প্রতিটি ম্যাচে আফ্রিকার প্রতিপক্ষের জন্য ভীতি ছড়াতেন তিনি। তার হাত ফসকে বল যাওয়া যে এক প্রকার অসাধ্যই ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ নেওয়ার প্রথম কীর্তি তারই। ক্রিকেটের প্রথম রান আউটটাও করেছেন তিনিই। যার শিকার কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। রোডসই প্রথম বিশ্বকে বুঝিয়েছিলেন, কেবল ফিল্ডিং দিয়েও অবদান রাখা যায় দলে। ফিল্ডিং এমনকি জেতাতে পারে ম্যাচ। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০ ক্যাচ নেওয়ার নজির গড়েছিলেন রোডস।

ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সবার কাছেই তিনি তর্কাতীতভাবে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফিল্ডার। যিনি এগিয়ে ছিলেন সময়ের চেয়ে। ক্রিকেট মাঠে ফিল্ডিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব তো তারই। ১৯৯৩ সালে ভারতের হিরো কাপের একটি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বলতে গেলে একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। মুম্বাইয়ের ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে সেদিন ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ১৮০ রানের বেশি করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু হতেই দেখা যায় জন্টি-জাদু। পাঁচটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৩৯ রানে গুটিয়ে দিতে রোডসের ছিল বড় অবদান। ব্রায়ান লারাকে ডাইভিং ক্যাচে ফেরানোর মুহূর্ত হয়তো এখনও অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ম্যাচসেরার লড়াইয়ে রোডসের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না সেদিন। সেদিন বিশ্ব জেনেছিল, ফিল্ডিং করেও ম্যাচসেরা হওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here