হায় হাথুরু!

দ্বিতীয় দফায় কোচ হয়ে আসার পর চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে নিয়ে বেশ আশা ছিল সবার। ক্রিকেটের কড়া হেডমাস্টার হয়ে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে যাবেন অনন্য উচ্চতায়, এমনটাউ ভেবেছিল সবাই। তার অধীনে প্রথম কয়েকটা সিরিজ বেশ দারুণ করে বাংলাদেশ। আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করি বিশ্বজয়ের। দেশের ক্রিকেটাররাও প্রবল আত্মবিশ্বাসে বলে এসেছেন, এবার কিছু একটা হবে। ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি আমরা। কিন্তু, স্বপ্ন আর বাস্তবতায় যে বড্ড অমিল।

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,

কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে!

কবি কুসুমকুমারী ‘দাশের আদর্শ ছেলে’ কবিতার এই দুটি লাইন জানে না এমন কেউ বোধকরি নেই। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকাদের দেখলে মনে হয় কাজে নয়, কেবল কথায় বড় হলেই হবে। এর দায় যতটা না খেলোয়াড়দের, তারচেয়ে ঢের বেশি হাথুরুসিংহের। কোচ হয়ে এসেই সিনিয়রদের বের দিতে রীতিমতো উঠেপড়ে লাগেন তিনি। মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রামের নামে তো বাতিলের খাতাতেই ফেলে দিয়েছিলেন। ইনফর্ম মুশফিকুর রহিমকে সহসা বাদ দিতে পারবেন না বলে তার সহজাত পজিশন নাম্বার ফোর থেকে নামিয়ে দিয়েছেন ছয়ে। সেখানেও মুশফিক সফল হলে হাথুরু যেন চুপ মেরে যান।

তবে, তিনি বসে ছিলেন না হাত গুটিয়ে। দেশের ক্রিকেটটাকে ধ্বংস করতে সাকিব-তামিমের পুরোনো দ্বন্দ্বটাকে আড়াল থেকে উস্কে দেওয়ার অন্যতম হোতা যে হাথুরুসিংহে, তা কারও বোঝার বাকি নেই। একটা দল যখন সেমিফাইনালের স্বপ্নে বিভোর, নিজেদের তৈরি করেছেন সেভাবে, সেখানে দলের কোচ হয়ে হাথুরু প্রকাশ্যে বললেন, যারা সেমির স্বপ্ন দেখছেন, ঘুম থেকে উঠুন। একটা দলের প্রধান কোচের এমন কথা দলের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা এবারের বিশ্বকাপেই প্রমাণিত।

সাকিব-তামিমের দ্বন্দ্ব চাইলেই অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্ত থামিয়ে রাখতে পারতেন হাথুরু৷ ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের কোচ ছিলেন রবি শাস্ত্রী। দলে তখন কোহলি-রোহিতের তুমুল দ্বন্দ্ব। একদিন দুজনকে ডাকলেন শাস্ত্রী। ডেকে বোঝালেন, ঝামেলা মেটালেন। এর ফল তো ক্রিকেট বিশ্ব দেখছেই। আর আমাদের কোচ পারলে সব সিনিয়রকে বাদ দিয়ে দেন।

বিশ্বকাপ হচ্ছে নিজেদের মেলে ধরার মঞ্চ। আসর শুরুর আগেই সব ভুল শুধরে প্রস্তুত হয়ে চূড়ান্ত ফলের জন্য মাঠে নামে সবাই। যেখানে বাংলাদেশ তার উল্টোটা করেছে। ১৫ জনের স্কোয়াডে আটজনেরই এবারই প্রথম বিশ্বকাপযাত্রা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রায় প্রতি ম্যাচেই হাথুরু এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। করতে গিয়ে ধরাটা খেয়েছেন। তিনি ভিনদেশি কোচ, মাস ফুরোলে মোটা অঙ্কের বেতন পান। দেশের প্রতি আমাদের আবেগটা তিনি বুঝবেন কী করে?

ভগ্ন ব্যাটিং, রুগ্ন ফিল্ডিং, হতাশাজনক এক দল নির্বাচন মিলিয়ে হাথুরুকে একটা ধন্যবা দেওয়া যায়। আমাদের বিশ্বকাপ আনন্দ মাটি করে দেওয়ায়, ক্রিকেটারদের মনোবল ভেঙে দেওয়ায়। হাথুরু, আপনি হয়তো দারুণ কোচ তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটটাকে আবারও পিছিয়ে দিলেন। এক বছর আগের আমরা আর পরের আমরায় আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here