পাকিস্তানের খান সাহেবের প্রেমে খান খান হলেন যে সকল ভারতীয় অভিনেত্রীরা

তার উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং কিংবদন্তি অধিনায়ক। এরপর কোনও মহিলা তাঁর প্রেমে পড়বেন না, তা হয় না কি! হ্যাঁ, ৬৯টি বসন্ত পার করা ইমরান খানের জীবনে এক বার নয়, একাধিক বার প্রেম এসেছিল।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের খেলোয়াড়ি জীবন ছিল বিতর্কে ভরপুর। বাইশ গজের ক্রিকেটে তিনি বিপক্ষ দলের জন্য ত্রাস হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও ক্রিকেটের বাইরের জীবনে তার আরেকটি খ্যাতি ছিল ‘প্লে বয়’ হিসেবে। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ সবসময়ই চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সেই দ্বৈরথকে ডাল ভাতে রূপান্তর করে ইমরান বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকাকে নিজের প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিলেন। বলিউড তারকারা তার সাথে প্রেমের সুবাধে বিয়ের কথা ভাবলেও ইমরানের চিন্তাধারা ছিল ভিন্ন। একবার এক মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘কিছুদিনের সঙ্গী হিসেবে অভিনেত্রীরা মন্দ নয়। তাঁদের সঙ্গ পছন্দ করলেও অল্প কদিন পর আমি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতাম। একজন অভিনেত্রীকে বিয়ের কথা আমি ভাবতেও পারি না।’

ভারতের এভারগ্রিন অভিনেত্রীদের যদি তালিকা করা হয় তাহলে তালিকার উপরের দিকেই নাম থাকবে রেখার নাম। ১৯৮৫ সালের এপ্রিল মাসের প্রায় পুরোটাই মুম্বাইতে কাটিয়েছেন ইমরান, সঙ্গী ছিলেন রেখা। রেখার সঙ্গে নানা সময় ইমরানকে সমুদ্র সৈকত, পার্টি বা নাইটক্লাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করেন, তাঁদের বেশ ঘনিষ্ঠভাবেই দেখা যেত। এতে নাকি রেখার মা পুষ্পাবলিরও মতামত ছিল। মেয়ের জামাই হিসেবে ইমরানকে বেশ পছন্দ ছিল তার। তবে সেই সম্পর্ক আর বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় নি। কেননা, ইমরান তো বিয়ের কথা ভাবতেই পারতেন না।

রেখার পর যেই বলিউড অভিনেত্রীর সাথে ইমরানের প্রেমের গুঞ্জন মিডিয়া পাড়ায় সব থেকে বেশি চাউর হয়েছিল, তিনি সত্তরের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী জিনাত আমান। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে ভারতে খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তৎকালীন ব্যাঙ্গালোর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সাজঘরে দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজের ২৭তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছিলেন ইমরান। তবে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সে বছর জন্মদিনটি আসলে জিনাতের সঙ্গে উদ্‌যাপন করেছিলেন ইমরান। যদিও এ নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন দুজনই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ছাপিয়ে সেবছর বেশ আলোচনা হয়েছে জিনাত-ইমরানের প্রেম নিয়ে। আর সে বছরই মূলত পাকিস্তানের সুপারস্টারের নামের পাশে ‘প্লে বয়’ শব্দটি যুক্ত হয়।
এই দুই বলিউড তারকা ছাড়াও সময়ের সেরা অভিনেত্রী মুনমুন সেনের প্রেমেও মজেছেন ইমরান। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। কিন্তু কোন এক সময় মুনমুনকে নিয়ে তার দুর্বল একটি মন্তব্য আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়াও ভারতের সিনেমা অঙ্গনের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা আজমীর সাথেও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। এই সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও সেই জল্পনাকল্পনা কখনো উড়িয়ে দেননি শাবানা বা ইমরান। আজও তাই শাবানা–ইমরানের সম্পর্ক এক রহস্য।

বলিউড তারকারা ছাড়াও পাকিস্তানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে ইমরানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। এর শুরু হয়েছিল খুব কম বয়স থেকেই। ইমরানের আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, তাঁর সঙ্গে বিয়ে দিতে জুলফিকারআলি ভুট্টোর পরিবারও আগ্রহী ছিল। তবে, সময়ের সরণিতে ভাগ হয়ে যায় তাঁদের চলার পথ। আর কোনওদিন সেই পথ মেলেনি।

এক সময় বিয়ে নিয়ে অনিহা প্রকাশ করা ইমরান ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে করেছেন তিনটি। ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিক জেমিমা গোল্ডস্মিথ বিয়ে করেন ইমরানকে। ধর্মান্তরিত হয়ে পাকিস্তানে চলে আসেন জেমিমা। তাঁদের নয় বছরের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তানের জন্ম দেন জেমিমা। কিন্তু সেই সম্পর্ক ২০০৪ সালে ছিন্ন হয়। এরপর পাক বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক রেহম খানকে বিয়ে করেন ইমরান। তবে তাদের এই সম্পর্কের বয়স ছিল মাত্র দশ মাস, এরপরই তারা আলাদা হয়ে যান। অতঃপর তৃতীয় বিয়ে করেন ইমরান। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ধর্মগুরু বুশরা মানেকাকেই তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বেছে নেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here