বাংলাদেশ ফুটবলের দুই ‘স’

আরেফিন জিসানঃ

সাদ কে আমার ক্ষেত্র বিশেষে পল পগবা’র মত মনে হয়। না তাদের খেলার ধরণে মিল আছে বলছি না। গ্রিজমান আর জিরুড গোল কিক থেকে বাতাসে বলের দখল নিতে দুর্বল। তো কিছু ক্ষেত্রে দেখি পগবা নিজ দলের গোল কিকের সময় তার পজিসনের বাইরে চলে আসে বাতাসে বল জিততে। জাতীয় দলে এখন সাদকে প্রায়ই দেখছি এই কাজটা করতে।

গতকাল সুফিলের গোলে জিতে এসএ গেমসে টিকে থাকলো বাংলাদেশ। আমি এই গোল কে মোটেও বড় করে দেখছি না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এনামুল হক ছাড়া আর কোন প্রলিফিক স্কোরার ছিল না। বাকি সবাই খুচরা খুচরা গোল টোকাতো। আমি এখানে আন্তর্জাতিক খেলার কথা বলছি। যেহেতু এনামুলের পর আর কোন ভালো স্কোরার আসেনি তো আমি গুরুত্ব দিচ্ছিলাম আমাদের একজন স্ট্রাইকার বা ফরোয়ার্ডের গোল করার থেকেও অন্যান্য এট্রিবিউটগুলোকে বিশেষত এবং বিশেষত প্রেসিং।

ফুটবলের উন্নতিতে কোন শর্টটার্ম পথ নেই তাই ২০১৫-১৬ সালের দিকে জাতীয় দলের কুখ্যাত সিন্ডিকেটের জন্য যখন আমাদের ফুটবল চূড়ান্ত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল তখন অবস্থা আপাত সামাল দিতে আমরা কয়েকজন চিহ্নিত করেছিলাম ফিটনেসের উন্নতি এবং মাঠে ১১ জন যত বাজেই খেলি না কেন স্কোরিং নিয়ে আলাদা পরিকল্পনায় যে পরিমাণ স্কোরিং সুযোগ তৈরি হয় তার বেশি না- ৪ ভাগের ১ ভাগ কাজে লাগানো। এসব নিয়ে অতীতে কাজ হলে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা থাকতো। ১৯৯৬-৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে মালয়েশিয়া বি দলকে চ্যাম্পিয়ন করে নিয়ে গিয়েছিলেন ইরফান বখতি আবু সেলিম যিনি ২০১৬ সালেও এসেছিলেন একই টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়ান ক্লাব ফেলডা ইউনাইটেড কে নিয়ে। সেলিম সেই ১৯৯৭ সালেই ক্রীড়াজগত সাময়িকীতে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘তোমাদের খেলোয়াড়রা টেকনিক্যালি দুর্বল এবং ম্যাচের শুরুতেই ধুমধাম খেলে শেষের দিকে দম হারিয়ে ফেলে।’

সবাই দেখছে সুফিলের গোল। আমি দেখলাম গোলের কুইক বিল্ডআপের আগে সুফিলের চেজিং ও প্রেসিং যা সহসাই সাদ ও আল আমিনের সমন্বয়ে জোনাল প্রেসিংয়ে পরিণত হয়ে প্রতিপক্ষকে বল হারাতে বাধ্য করে। জীবন থাকলে এরকম পরিস্থিতি জীবনেও তৈরি হতো না। কতদিন পর আপ ফ্রন্টে এরকম ইফেক্টিভ জোনাল প্রেসিং দেখলাম। ২০১৮ এশিয়ান গেমসে ফুটবলাররা নিজেদের মানকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে যা ধরে রাখবার দায় বাফুফের। আমরা দুর্দান্ত ফিট একটা প্রজন্ম পেলাম। এখন আমার বিশ্লেষণ মত সুফিলে ফোকাস করলে আমরা একজন নিয়মিত স্কোরার পেতে পারি। সুফিলকে নিয়ে আমার ফিচারের স্ক্রিনশট কমেন্টে।

সাদের কথা বলছিলাম শুরুতে। একজন নো ননসেন্স ও ভার্সেটাইল ফুটবলার, অরিজিনালি ফরোয়ার্ড। ACL tear হয়ে স্পিড কমে গেছে অনেকখানি। তবুও তার ইফেক্টিভনেস নিয়ে কখনই সন্দেহ করি না। যদিও ২০১৮ এশিয়ান গেমসের আগে কোচ জেমি যখন সাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে মন্তব্য করলেন যে তাকে ফরোয়ার্ড হিসেবে নেয়া হচ্ছে তখন এখানে ওখানে লেখালেখি করে অনেক সমালোচনা করেছিলাম। কারণ আবাহনীতে সাদ মূলত ফুল ব্যাক ও রাইট ব্যাক হিসেবে খেলছিল এবং অলিম্পিক দলে ফরোয়ার্ড অনেকেই ছিল। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া তে সাদের খেলা দেখে তার ভক্ত হয়ে গেলাম। তার ওয়ার্ক রেট অবিশ্বাস্য ছিল।

দিন কয়েক আগে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৫-৩-২ ফরমেশনে উপরে জীবনের সাথে সাদ থাকলেও জীবনের দুর্বলতায় সাদকে বেশি ডিফেন্ড করতে গিয়ে ফরমেশন হয়ে গিয়েছিল ৫-৪-১। কিন্তু গতকাল সাদ ও সুফিল নিজেদের কাছাকাছি থাকতে পারছিল। এত গোল মিস না হলে সাদের এসিস্টের হ্যাট্রিক হয়ে যেত গতকাল। আমি চাই আবাহনীতে তাকে উপরে খেলানো হোক। এবং অতি অবশ্যই তার একটি নির্দিষ্ট রোল ঠিক করে দেয়া হোক। রূপু একেবারে শুষে নিচ্ছে সাদকে।

ফুল ব্যাক নেই? সাদ কে ডাকো। কার্ড সমস্যায় দলের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নেই? সাদ কে ডাকো। জীবনের লুজ বলগুলো ডিফেন্ড করতে হবে? সাদ কে ডাকো। AFC Cup গ্রুপ স্টেজের অল ইম্পরট্যান্ট শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাটিতে ভিসা জটিলতায় স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা নেই? সাদ কে ডাকো। ওই ম্যাচে পাঞ্জাবের সিরিয়ান প্লেমেকার আল আমনাকে ট্যাকটিকাল ফাউল করতে হবে? সাদ কে ডাকো। উত্তর কোরিয়ান জায়ান্ট এপ্রিলের দুর্ধর্ষ উইং প্লে আটকাতে হবে? সাদ কে ডাকো। বাংলাদেশ ফুটবলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড় এখন সাদ উদ্দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here