গল্পঃ ম্যাশের মায়ায় ক্ষুদে পেসার

Bangladesh cricket captain Mashrafe Mortaza celebrates after Bangladesh defeated Sri Lanka by 90 runs in the first one day international (ODI) cricket match between Sri Lanka and Bangladesh at The Rangiri Dambulla International Cricket Stadium in Dambulla on March 25, 2017. / AFP PHOTO / Ishara S. KODIKARA

জাহিরুল কাইয়ুম ফিরোজঃ ‘পা দুটো বেঈমানি করলেও ঘাড়ের রগটা বাঁকা করে চ্যালেঞ্জ করবো নিজেকেই’! রবির অ্যাডে বলা ম্যাশের সংলাপ তার জীবনের সাথেই মিলে যায়। মাশরাফিকে নিয়ে বলতে গেলে কয়েক প্রহর কেটে যাবে, বলা শেষ হবে না। দেশে কি আরেকজন মাশরাফি আছেন যিনি সমানতালে দেশপ্রেমী, অকুতোভয় যোদ্ধা, নেতা? অল ইন ওয়ান শব্দগুচ্ছের ব্যবহার স্রেফ বাজারের রংচঙা গাইডের মলাটেই লিখা থাকে, বাস্তবে যা নিতান্ত শব্দগুচ্ছই! কাড়ি কাড়ি জিপিএ ফাইভের যুগে কোনো ভার্সিটির এডমিশন টেস্টে যদি প্রশ্ন আসে ‘অল ইন ওয়ানের’ বাংলা কি এবং উত্তর যদি হয় মাশরাফি, বুঝতে হবে তিনি কোথায় পৌঁছেছেন! তিনি উদ্দীপ্ত, উদ্দীপনার বীজ বুনেছেন গোটা বাংলায় যেখান থেকে অদূর ভবিষ্যতে অনায়াসে বেরুবে আরেকজন মাশরাফি! সরি, ম্যাশে উদ্দীপ্ত আরেকজন পেসার।

বাড়ির সামনে লম্বা উঠান। ব্যবসায়ী পিতা সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে তাতে ইট দিয়ে হালকা ঢালাই দিলেন যাতে বর্ষায় কাঁদাপানিতে হাঁটতে অসুবিধা না হয়। সেই পরিবারের ছোট ছেলে মাদ্রাসাপড়ুয়া। এলাকার স্টেডিয়ামে একদিন গেলেন ফুটবল ম্যাচ দেখতে। সেখানে তার চোখে পড়ে মাঠের এককোণের শক্ত পিচ, একেবারে পরিপূর্ণ ঢালাইসমেত! এগুলোকে নিছক দৈনন্দিন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেয়া যায়। কিন্তু, কেউ কেউ অনুপ্রাণিত হন অতি সাধারণ জিনিস থেকে ঠিক রবার্ট ব্রুসের মাকড়সা কাহিনীর মতোন! ক্লাস সিক্সের শিশুর মনে গেঁথে গেলো কংক্রিটের পিচ। যান্ত্রিক শহরে নাগরিক কোলাহলের কমতি নেই, কেবল সমস্বরে চিৎকার দেবার লোকের অভাব। মাঠ নেই, খেলার উপায়ও নেই। আছে টিভি, আছে কম্পিউটার, আছে মোবাইল ফোন। এসবের দুর্লভ দিনেও মাশরাফি ছিলেন পরিচিত, সুলভ দিনে তো সু-পরিচিতই। আধুনিকতার ফায়দা নিলো বুদ্ধিদীপ্ত শিশু। মাশরাফিকে দেখলো, শিখলো, জানলো…

ক্ষান্ত হয়নি সে। বাড়ির উঠানকে পিচ, দেয়ালে তিনটে দাগ, একটি বলের সমন্বয়ে স্বপ্নকে টেনে বের করে আনার পালা! ক্রিকেটপ্রেমী আরো কয়েকজন জুটে গেলো। কেউবা বয়সে ছোট, কেউবা বড়, কেউ আবার সমবয়সী। তাতে কি? তাসকিনের সাথে যখন বুক মেলালো মাশরাফি তখন কি আর বয়সটা বাধ সেধেছিলো? বাধ সাধেনি বয়স, সেধেছিলো ইঞ্জুরি। ওই ছোট্ট শিশুর বেলায়ও অভিন্ন দৃষ্টিকটু নিয়তি। চোখের কোণে বলের আঘাতে শয্যাশায়ী। মায়ের বকুনি, বাবার শাসন বিছানায় থাকা তাকে কাঁদায় নি, হাসিয়েছে! ‘এরা কাকে অহেতুক বকছে? মা, মহাগুরুর ভক্ত আমি। তোমাদের চোখরাঙানি আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। আমার এখনো দেয়ালটায় ফাটল ধরানো বাকী’-মনে মনে আউড়াচ্ছে শিশুটি।

মনের জেদ, বুকের সাহস আর সঞ্চিত আত্নবিশ্বাসে নবোদ্যমে নতুন সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে শুরু হলো তার যুদ্ধ! লক্ষ্য, ভাঙ্গবে ছ’ফুটি দেয়াল। চূর্ণ করবে দম্ভ। তবেই না কেবল পারবে বাইশ গজের তেকাঠি উড়িয়ে দিতে। ওই যে রুবেল হোসেন বলেছিলো, ‘ ডাইরেক্ট ভাইঙ্গা দিমু’! ঠিক ওইভাবে….।

লিখাটি বাস্তবিক চরিত্রের অবলম্বনে রচিত। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here