জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নে বিভোর বসুন্ধরা কিংসের হামিদ

‘গোলকিপার, এ আর এমন কি’ কথাটা এমনই। ফুটবলের সবুজ গালিচায় এই খেলোয়াড়টাই থাকে সব থেকে আন্ডার রেটেড। গোলকিপারদের নিয়ে তাই তেমন কোন কথাও হয় না। না হয়, তবে আলোচনার থেকে সমালোচনাই বেশি হয়। মাঠের আট দশটা যখন পরাস্ত হয়ে যায় তখন গ্যালারি বলেন কিংবা টিভি পর্দায় সকলের চোখ আটকে যায় সেই আন্ডার রেটেড খেলোয়াড়ের উপর। কার কাছে কেমন জানি না তবে ফুটবলের সবুজ গালিচায় আমার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ গোলকিপারের।

২০১৩/১৪ মৌসুমে সিলেটের জালালাবাদ ক্লাবের হাত ধরেই সিলেট প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে খেলেন হামিদ। সে বছরই বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন সিলেটের গোলাপঞ্জের ছেলে হামিদ। ২০১৫/১৬ এবং ২০১৬/১৭ এই দুই মৌসুমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ানশীপ লীগে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। সেখান থেকেই প্রিমিয়ার লীগের দল রহমত মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির নজরে পড়েন হামিদ। এবং প্রথম সিলেটি গোলকিপার হিসেবে বিপিএলে খেলার কৃতিত্ব দেখান তিনি।

সেখান থেকেই বিপিএলের গেলো আসরের চ্যাম্পিয়ান দল বসুন্ধরা কিংসের নজরে আসেন হামিদুর রহমান। প্রতিভাবান এই গোলরক্ষককে নিজেদের দলে ভেড়াতে ভুল করে নি কিংস কর্তৃপক্ষ। এবারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতেই দেখা যাবে তাকে।

সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে পঞ্চম হামিদুর রহমান রিমনের মুখোমুখি হয়েছিলেন টাইগার্স কেইভের। পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সাইফ আল হাদি

টাইগার্স কেইভঃ ফুটবলার হয়ে উঠার গল্পটা যদি বলতেন?

হামিদঃ আসলে আমার ফুটবলার হয়ে উঠার গল্পটা অনেক কষ্টের। কারণ, আমি শুরুতে আমার পরিবার থেকে কোন সাহায্য পাই নি। প্রত্যেকটা পরিবারের মতো তাদেরও ইচ্ছে ছিল আমি পড়ালেখাটাই মনোযোগ দিয়ে করি। এইসব ফুটবল খেলে কি আর হবে। তখন আমি আম্মুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে যেতাম। প্রতিদিন আম্মুর কাছে চাইতেও পারতাম না, তখন পায়ে হেঁটে স্টেডিয়ামে যেতাম। এখন অবশ্য আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট দিচ্ছে।

টাইগার্স কেইভঃ ঢাকা কিংবা সিলেটের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। কখন আসলে মনে হলো যে, ফুটবলটাকেই পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

হামিদঃ স্পেসিফিক সময়টা বলা কঠিন। সত্যি কথা বলতে আমি শুরুতে খুব বেশি ক্রিকেট খেলতাম। এরপরে ধীরে ধীরে ফুটবলের প্রতি আমার জোঁকটা বাড়লো, ফুটবলের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে গেলাম। তখন থেকেই আমি চিন্তা করেছিলাম ফুটবলেই আমাকে কিছু করতে হবে। এরপর থেকে চেষ্টা করতে থাকলাম, সাফল্যও পেলাম আলহামদুলিল্লাহ।

টাইগার্স কেইভঃ গেলো আসরেই প্রথম সিলেটি গোলকিপার হিসেবে বিপিএল খেললেন। এবার চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে খেলবেন। প্রাপ্তিটা কেমন?

হামিদঃ আলহামদুলিল্লাহ, প্রাপ্তিটা আমি বলবো অনেক। প্রথম গোলকিপার হিসেবে খেলেছি সেটা আলাদা একটা প্রাপ্তি। তবে, আমি কোন সময় চিন্তা করতাম না যে আমি প্রথম হিসেবে খেলবো। আমি আমার খেলার দিকেই মনোযোগী ছিলাম। কারণ, আমি বিশ্বাস করি আমি নিজের সেরাটা দিতে পারলে আমার সুযোগ আসবে।

টাইগার্স কেইভঃ আন্তর্জাতিক মানের টুর্ণামেন্ট শেখ কামাল কাপ। বসুন্ধরার জার্সিতে এটিই আপনার প্রথম কোন টুর্ণামেন্ট। প্রস্তুতি কেমন?

হামিদঃ প্রস্তুতি ভালোই। সব পজিশন মিলিয়ে আমাদের অনেক ভালো একটা টিমও হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো।

টাইগার্স কেইভঃ জাতীয় দলের জন্য কতটা প্রস্তুত?

হামিদঃ আসলে প্রত্যেকটা খেলোয়াড়েরই একটা স্বপ্ন থাকে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, জাতীয় দলে খেলা। আমিও অবশ্যই তার ব্যতিক্রম নই। আমি মনে করি আমার যখনই কোন সুযোগ আসবে আমি আমার নিজের সেরাটা দিতেই প্রস্তুত থাকবো।

টাইগার্স কেইভঃ ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য। শুভকামনা রইলো।

হামিদঃ টাইগার্স কেইভকেও ধন্যবাদ এবং শুভকামনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here