জাতীয় দলে খেলার জন্য উন্মুখ রানা, ওয়ার্নারের কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন গ্লাভস

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা চলাকালীন সময়ে ইয়ান বিশপ বলেছিলেন ছেলেটা বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ। এরপরে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম আলোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘কোথায় সেই রানা? সে তো এখন বাংলাদেশ দলের আশেপাশে থাকার কথা।’ ইঞ্জুরির কারণে মেহেদী হাসান রানার সময় তো একটু লেগেছে কিন্তু তিনি নিজের যোগ্যতায় আবার ফিরেছেন বাইশ গজে। ফেরার বছর বিপিএলে খেলেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। গেলো আসরে খেলেছেন সিলেট সিক্সার্সের জার্সিতে। এনসিএলে খেলছেন চিটাগাং ডিভিশনের হয়ে। এই সকল ধারাবাহিক সফলতার ফল হিসেবে খেলছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে।

বিপিএলে ডেভিড ওয়ার্নারের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার গল্প থেকে রানার ক্যারিয়ারের গল্প কিংবা জাতীয় দলের জন্য রানা কতটা প্রস্তুত এই সকল বিষয়ে জানতে বাঁহাতি এই ফাস্ট বোলারের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগার্স কেইভ। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সাইফ আল হাদি।

টাইগার্স কেইভঃ অনুর্ধ্ব-১৯ এ নিয়মিত খেলেছেন। এখন প্রায় জাতীয় দলের আশেপাশেই ঘুরঘুর করছেন। এ দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন। পূর্বের রানা আর এখনকার রানার মধ্যে পার্থক্য কতটুকু ?

মেহেদী রানাঃ পার্থক্য বলতে আমার কাছে তেমন কিছু মনে হয় না। একটা ব্যাপার ছিল যে অ-১৯ এ যখন ছিলাম তখন হয়তো ওইরকম ম্যাচিউরড ছিলাম না। এখন ধারাবাহিকভাবে খেলার কারণে আগের থেকে বেশি ম্যাচিউরিটি আসছে আমার মধ্যে। এখন কিভাবে ভালো পারফর্ম করে জাতীয় দলে ঢোকা যায় এই সকল বিষয়ে বেশ জোর দিচ্ছি।

টাইগার্স কেইভঃ অ-১৯ শেষে বড় ইঞ্জুরির কারণে প্রায় বছর দুয়েক ক্রিকেট পাড়ায় তেমন দেখা যায় নি রানাকে। সেখান থেকে ক্রিকেটে ফিরে এতোদূর আসাটা কতটুকু কষ্টসাধ্য ছিল আপনার জন্য?

মেহেদী রানাঃ আমার যে ইঞ্জুরিটা হয়েছিল ওইটা সাধারণত অন্যান্য খেলোয়াড়দের খুব কমই হয়। ওইটা ওয়াসিম আকরামের হয়েছিল, তারপর উনি ইংল্যান্ডে সার্জারি করিয়ে পরে ক্রিকেটে ফিরেছিল। ওই জায়গা থেকে কামব্যাক করাটা আমার জন্য অনেক বড় একটা অর্জন আমি বলবো। প্রায় দুই বছর ক্রিকেটের বাইরে থেকে আবার ফিরে আসাটা অনেক কষ্টসাধ্য। আমি আবার আমার পজিশনে আসতে পেরেছি সে জন্য মহান আল্লাহ পাকের কাছে অনেক শুকরিয়া আদায় করি।

টাইগার্স কেইভঃ বিপিএলের গেলো আসরে ডেভিড ওয়ার্নারের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি ম্যাচেও দেখা গেছে যে ওয়ার্নারের আস্থার হাত আছে আপনার কাধে। ওয়ার্নারের সাথে মজার কোন একটা মেমোরি যদি শেয়ার করতেন?

মেহেদী রানাঃ আসলে আমি কথা একটু কম বলতাম তাই প্রথমে যখন ওয়ার্নার দলের সাথে যুক্ত হয়েছিল তখন ওইরকম কোন কিছু হয় নাই। এরপর ধীরে ধীরে সবার সাথে একটু কথা হতো, তখন ওয়ার্নার নিজে থেকে এসেই আমার সাথে কথা বলতো। বলতো এটা এভাবে করো, ওইভাবে করলে ভালো হবে। এরপর আমি যখন নেটে বোলিং শুরু করি তখন ও আমার বোলিং দেখে খুব পছন্দ করে। এরপর হেড কোচ ওয়াকার স্যারের সাথে আলোচনা করে আমাকে ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেয়। ম্যাচে ও যতটুকু আমার থেকে আশা করেছিল আমি ততটুকু করতে না পারলেও আমার উপর ও সন্তুষ্ট ছিল। তারপরে যাওয়ার সময় ও নিজে থেকে আমাকে দু’জোড়া গ্লাভস উপহার দিয়েছিল।

ছবিঃ বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের জার্সিতে ওয়ার্নারের সাথে রানা

টাইগার্স কেইভঃ আফগানদের বিপক্ষে এ দলের হয়ে সম্প্রতি খেলেছেন। পূর্বের থেকে নিজেকে এখন কতটা পরিপক্ব মনে হয়?

মেহেদী রানাঃ দেখেন পেস বোলারদের দুইটা মুল অস্ত্র হচ্ছে বলে পেস থাকা আর সুইং। এই দুইটা জিনিসের খুব প্রয়োজন পড়ে। তো আল্লাহর রহমতে আমি মনে করি এখন আমার বলে পেসটা অনেক ভালো। আগে আমি ১৩০ কিমি গতিতে বল করতাম এখন ১৩৫ কিমি গতিতে করছি। সুতরাং আমি মনে করি একটা রিদমে নিজেকে নিয়ে আসতে পেরেছি। আফগানদের সাথে ভালো বোলিং করেছি, সে জন্য নির্বাচক বা বোলিং কোচের ভালো সাপোর্ট পেয়েছি। তাছাড়া এখন আমি ইন্টারন্যাশনাল খেলোয়াড়দের সাথে খেলছি সুতরাং নিজেকে পূর্বের চেয়ে অনেকটাই পরিপক্ক মনে হয়।

টাইগার্স কেইভঃ নিজের ক্যারিয়ারে এতোদূর আসা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা বোর্ডের সাপোর্ট কতটুকু ছিল?

মেহেদী রানাঃ পরিবারের সাপোর্ট তো অবশ্যই ছিল। এতোদূর আসা পর্যন্ত আমার মা,বাবা, ভাই, বোন সবাই আমাকে সাপোর্ট করছে। বোর্ড এবং বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকেও অনেক সাপোর্ট পেয়েছি। বিশেষ করে যখন আমি ইঞ্জুরিতে ছিলাম তখন তারা আমাকে অনেক হেল্প করেছে, আমাকে উৎসাহ দিয়েছে ভালোভাবে কামব্যাক করার জন্য। এই দিক থেকে বিসিবিকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাকে এইচপিতে সুযোগ দেয়ার জন্য এটা আমাকে অনেক হেল্প করেছে। পাশাপাশি আমার বন্ধুবান্ধবকেও ধন্যবাদ জানাই তাদের সাপোর্টের জন্য।

টাইগার্স কেইভঃ জাতীয় দলের চাপ নিতে প্রস্তুত?

মেহেদী রানাঃ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নটা সকলেরই থাকে। আমি যখন অ-১৯ এ ছিলাম তখন থেকেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন দেখি। আর জাতীয় দলে খেলার জন্য আমি সব সময়ই প্রস্তুত। আগে হয়তো অভিজ্ঞতাটা একটু কম ছিল এখন তা একটু বেড়েছে। চেষ্টা থাকবে সুযোগ পেলে নিজের সর্ব্বোচ্চটা দেয়ার।

টাইগার্স কেইভঃ ধন্যবাদ আপনাকে। শুভকামনা রইলো।

মেহেদী রানাঃ টাইগার্স কেইভকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here