বাঘের থাবায় কেঁপেছিল বিশ্ব…

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশকে মানুষ একটি কারণে অনেক বেশিই চিনে সেটি হচ্ছে ক্রিকেট। ক্রিকেট নামক খেলাটি বাঙালীর আবেগের সাথে মিশে আছে। একটা সময় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই হারের বৃত্তে বন্ধি থাকা একটি দল। সেই খোলস ছেড়ে যখন একটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিততো, তখন দর্শকদের মনে আনন্দের সীমা থাকতো না।

সময়ের বিবর্তন ঘটেছে, পাল্টেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও। এখন বলে কয়ে যে কাউকেই হারিয়ে দিতে পারে আমাদের বাঘেরা। সাকিব-তামিম-মাশরাফি-মুমিনুলদের হাত ধরে যেন বদলে গিয়েছে টাইগারদের সময়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে একের পর এক অভিনব রেকর্ড গড়ে যাচ্ছে আমাদের বাঘেরা। আজকের ফিচারটিতে থাকছে বাঘেদের পাঁচ তারকার এমন কিছু অভিনব রেকর্ড যা নাড়া দিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটকে। হয়তো তাদের এই রেকর্ডগুলো মুছবে না কখনো। চলুন এক নজরে তা দেখে নেয়া যাক…

সাকিব আল হাসানঃ বিশ্ব ক্রিকেটের সবাই যাকে চিনেন মি. অলরাউন্ডার নামেই। একই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট, ১০ উইকেট নেয়া সহ বিশ্ব ক্রিকেটে কতশত কৃর্তী গড়েছেন সাকিব। সেই সব ছাপিয়ে তার যে রেকর্ড ক্রিকেট বিশ্বে স্বর্নালী অক্ষরে লিখা আছে তা হলো প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই সাথে ৩ ফরম্যাটেই বিশ্বের শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়া। কেউ যদি বর্তমান সময়ে এসে এই রেকর্ড ভেঙ্গেও ফেলেন তবুও প্রথম হিসেবে সাকিব আল হাসানের নামই থাকবে সবার উপরে।

তামিম ইকবাল খানঃ একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে দলের হয়ে তিন ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সর্ব্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ডটি বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের দখলে। তাছাড়াও তার ঝুলিতে আছে দলের হয়ে সব ফর‌ম্যাটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, ফিফটি, বেশি চার ও বেশি ছক্কা হঁকানোর রেকর্ডও। তবে সে সব ছাড়িয়ে তার প্রথম দুটো রেকর্ডই অমরত্ব পেয়ে গেছে।

মুমিনুল হক সৌরভঃ টেস্টে অভিষেকের পর থেকে টানা ১৩ টেস্টেই খেলেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। যেটা একটা বিশ্ব রেকর্ড। ভিলিয়ার্সেরও ১৩ টেস্টে ফিফটি প্লাস রান করার রেকর্ড থাকলেও অভিষেকের পর গত ১৩৬ বছরের ইতিহাসে এমটা আর কোন ব্যাটসম্যান করে দেখাতে পারেন নি।

সোহাগ গাজীঃ ১৩ অক্টোবর ২০১৩, চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের সাথে টেস্ট ম্যাচে প্রথমে সেঞ্চুরি এবং পরে বল হাতে হ্যাট্রিক করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের তরুণ অফ স্পিনার সোহাগ গাজী। বাংলাদেশ দলে সাকিব আল হাসানের পর একমাত্র তিনিই কোন একটি টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি এবং পাঁচের বেশি উইকেট নিলেন।প্রথম ইনিংসে আট নম্বর ব্যাটসম্যান হিসাবে ক্রিজে নেমে টেইল-এন্ডারদের সাথে সেঞ্চুরি করেন সোহাগ। ১০১ রান করে অপরাজিত থাকার পর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে একটি হ্যাট্রিকসহ ছয়টি উইকেট নেন এই অফ স্পিনার। ১৩৬ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এই ঘটনা এই প্রথম। যে কারনে প্রথম হিসেবে এমন বিরল রেকর্ড গড়ায় সেটা আর ভেঙ্গে যাওয়ার সুযোগ নেই।

মোহাম্মদ আশরাফুলঃ সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে একই দিনে দুইটি রেকর্ড গড়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই বিস্ময় বালক। সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে তার অভিষেক ঘটে এবং একই ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরিও হাঁকান বাংলাদেশের আশার ফুল মোহাম্মদ আশরাফুল। কালের বিবর্তনে বর্তমান সময়ে ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভবই। তবুও যদি কারো অভিষেক হয়ে যায় তবে সেটা টেস্টে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here