বিশ্বসেরা হবার স্বপ্নকে এখনো লালন করছেন পান্না ঘোষ

পাশের বাড়ির পত্রিকায় রোজ চোখ বুলাতেন খেলার পাতায়। ক্রিকেটের খবরাখবর রাখতেন। দেখতেন মেয়েদের ক্রিকেট খেলার কোন সুযোগ আছে কি না। বলছি রাজশাহীর মেয়ে পান্না ঘোষের কথা। ব্যবসায়ী শ্রী রাম প্রসাদ আর রাণী ঘোষ দম্পতির ষষ্ঠ সন্তান পান্না ফুটবল, ভলিবলে পারদর্শী থাকলেও সামর্থ্য, সাফল্যের মিশেলে ওসব খেলায় নয়, হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ প্রমীলা জাতীয় ক্রিকেট দলের ভরসার আরেক নাম। ২০১১ থেকে নিয়মিত জাতীয় দলে খেলা ২৯ বছর বয়সী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগার্স কেইভ। তিনিও শোনালেন নিজের গল্প, স্বপ্ন, ভাবনার কথা। সেসব নিয়েই সাক্ষাৎকারটি সাজানো। সাজিয়েছেন জহিরুল কাইউম ফিরোজ…

টাইগার্স কেইভঃ ভলিবল খেলতেন। সেখান থেকে ক্রিকেটার হবার গল্পটা দিয়েই শুরু হোক…
পান্না ঘোষঃ একটা ঘটনা আমার ক্রিকেটার হব পথ তৈরি করে দেয়। ২০০৪ সালে রাজশাহী বিভাগীয় দলের হয়ে ভলিবল খেলতে একবার ঢাকা আসি। ধানমন্ডির জাতীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দেখি মেয়েরা ক্রিকেটও খেলছে। ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন ফের উঁকি মারে। রাজশাহী ফিরে শুরু করি ক্রিকেট প্র্যাকটিস। কোচ মিজানুর রহমান মিলনের কাছে শুরু করি ক্রিকেট শিক্ষা। কয়েক বছর পর স্থানীয় পর্যায়ে একটা ওপেন টূর্ণামেন্ট হয়। সেখানে আমার দল চ্যাম্পিয়ন হয়। টূর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হই আমি। তারপর জাতীয় দলের বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করি। সুযোগ পেলাম। এসএ গেমসে খেলতে মালয়েশিয়ায় যাই। সেখানে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয় আর আমি আবারো টূর্ণামেন্টসেরা হই। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া।

টাইগার্স কেইভঃ এখন নারীদের খেলার ক্ষেত্রে তেমন প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও ১৫ বছর আগেকার চিত্র ভিন্ন ছিল। সেইসময়টা আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল?
পান্নাঃ তখন যে নারীরা ক্রিকেট খেলত তা’ই আমার জানা ছিল না। শুধু শুনতাম মেয়েদের একটা জাতীয় দল হবে। আমি আমার প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতাম।

টাইগার্স কেইভঃ পরিবারের কাছ থেকে কতটুকু সাপোর্ট পেয়েছেন?
পান্নাঃ তারা সর্বোচ্চ সাপোর্টই দিয়েছে।

টাইগার্স কেইভঃ যে স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেটে এসেছিলেন, এতটা পথ পাড়ি দিয়ে ক্যারিয়ারে সেসব পাওয়া- না পাওয়া, সবমিলিয়ে সন্তুষ্টি কতটুকু?
পান্নাঃ স্বপ্ন ছিল বিশ্বের মানুষ আমাকে একনামে চিনবে। একদিন বিশ্বসেরা পেসার হব। এক নম্বর পেসার হবার স্বপ্নটা পূর্ণ থাকলেও এখনো দেখে যাচ্ছি। ছোটখাটো অনেক স্বপ্নপূরণ হয়েছে। সবমিলিয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট।

টাইগার্স কেইভঃ ক্রিকেটের মানুষ আপনি। অবসরের পর প্রিয়প্রাঙ্গনে ফিরা হবে আবারো?
পান্নাঃ ইচ্ছে আছে। আমি আনসারে চাকরি করি। সেখানকার কোচ হতে চাই। ক্রিকেটে ফিরতে চাই হয়ত কোচ অথবা অন্য কোন ভূমিকা

টাইগার্স কেইভঃ খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা মূহুর্ত…
পান্নাঃ ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ। শেষ ওভারে জিততে ওদের প্রয়োজন ১৩ রান। বোলিং করেছিলাম আমি। ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছিলাম। আরো একটি সেরা মূহুর্ত হচ্ছে, ২০১৮তে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ৫ উইকেট পেয়েছিলাম এবং বাংলাদেশও জিতেছিল।

টাইগার্স কেইভঃ নারী ক্রিকেটের সম্ভাবনা, তরুণীদের আগ্রহ কতটুকু দেখছেন?
পান্নাঃ এখন ক্রিকেটে সুযোগ সুবিধা আছে। ভালো খেলছে, সাফল্য এনে দিচ্ছে। আগের মতোন সামাজিক বাঁধাটাও কম হওয়াতে তরুণীরা আগ্রহী হচ্ছে।

টাইগার্স কেইভঃ ক্রিকেটের আদর্শ আর ব্যক্তিজীবনের অনুপ্রেরণা কে?
পান্নাঃ ক্রিকেট কিংবা ব্যক্তিজীবন যা’ই বলুন, মিজান স্যার না থাকলে আমি আজকের পান্না ঘোষ হতে পারতাম না। আমার আদর্শ অনুপ্রেরণা তিনিই।

টাইগার্স কেইভঃ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে বলি, কী বলবেন?
পান্নাঃ জীবনের একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করো। সেটির জন্যে পরিশ্রম করো। লোকের কথায় কান দিও না। পড়াশোনা চালিয়ে যাবে যেকোন পরিস্থিতিতে। দেখবে একদিন সাফল্য ধরা দেবেই।

 

টাইগার্স কেইভঃ সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সামনের দিনগুলির জন্য শুভকামনা রইলো।

  1. পান্নাঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here