ইমন বাবু : অর্থের চেয়ে ফুটবলের প্রতি ভালবাসা যার কাছে মূখ্য

২০১৫-১৬ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় কাটিয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। সেই মৌসুমে লীগের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ছিল আকাশী নীলরা। শিরোপা জয়ের পর আবাহনীর তৎকালীন অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনার দলের শিরোপা জয়ের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি? বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে সেরা এই কোচের সাফ জবাব, ‘অবশ্যই ইমন। সে-ই আমার দলের সেরা খেলোয়াড়।’ অথচ আবাহনীর সেই দলে ছিলেন বিদেশী অনেক তারকা ফুটবলার।

কে এই ইমন প্রশ্ন অনেকের মাথায়ই ঘুরপাক খাচ্ছে। যারা নিয়মিত ফুটবলের খোঁজ খবর রাখেন তাদের কাছে ইমন অপরিচিত কেউ নন। ২০০৯ সাল থেকে খেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে। ২০১৫/১৬ মৌসুমে ইমনের পারফর্ম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে লীগের নবাগত দল বসুন্ধরা কিংস নিজের শিবিরে ইমনকে নিতে ভুল করে নি। তবে, সে জন্য কিংসদের গুনতে হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ। প্রায় ৬৫ লাখ টাকায় আকাশী নীল শিবির থেকে লাল শিবিরে যুক্ত হন ইমন। দেশসেরা এই ডিফেন্ডারকে দলে ভিড়িয়ে কোন ভুল করে নি কিংসরা তার প্রমাণ প্রথমবারের মতো লীগে এসেই শিরোপা জয়ে ইমনের অবদান।

বাংলাদেশের ফুটবল, ফুটবলের ভবিষ্যৎ, তরুণদের ফুটবলে ক্যারিয়ার, নিজের ক্যারিয়ার, ক্লাব বদল কিংবা ভবিষ্যতে কোন দিন ফেডারেশন সভাপতি হলে তার ভাবনা সব জানতে ইমন মাহমুদ বাবুর মুখোমুখি হয়েছিল টাইগার্স কেইভ। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সাইফ আল হাদি।

টাইগার্স কেইভঃ প্রথমেই অভিনন্দন বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম পার করেছেন পাশাপাশি শিরোপাও জিতেছেন। কেমন আছেন?

ইমনঃ আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

টাইগার্স কেইভঃ ফুটবলের শুরুর গল্পটা যদি জানাতেন?

ইমনঃ ফুটবল শুরুর গল্প বলতে আমি শুরুতে আমাদের এলাকার একটা একাডেমীতেই খেলতাম। সেখানে খেলার সুবাধে স্কুল টুর্ণামেন্টে খেলা হয়, স্কুলের স্যাররাও বলেন খেলার জন্য। আমাদের স্কুল সেই টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ানও হয়। তারপর অনুর্ধ্ব-১৪’র ট্রায়াল শুরু হয়। যেহেতু আমরা চ্যাম্পিয়ন ছিলাম সেহেতু সেখানে আমাদের স্কুল দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখান থেকে অনুর্ধ্ব-১৪ জাতিয় দলের হয়ে খেলি, পরে অনুর্ধ্ব-১৬/১৭ তেও খেলি। এরপর জাতীয় দলে ডাক পাই। অতঃপর জাতীয় দলের পাশাপাশি প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ হয়ে লীগেও খেলা হয়েছে।

টাইগার্স কেইভঃ জাতীয় দলের খেলছেন অনেক দিন। এখন পর্যন্ত আপনার স্মরণীয় মুহুর্ত কোন মুহুর্ত যদি আমাদের সাথে শেয়ার করতেন?

ইমনঃ জাতীয় দলের হয়ে স্মরণীয় ম্যাচ বলতে গেলে, বাংলাদেশের জার্সি গায়ে আমার অভিষেক ম্যাচটাই এখন পর্যন্ত আমার কাছে স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবেই আছে।

ছবিঃ জাতীয় দলের জার্সিতে জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন ইমন

টাইগার্স কেইভঃ দেশের ফুটবলের ঘুম অনেকটাই ভেঙ্গেছে। পুরোটা ভাঙ্গাতে আপনার মতে করণীয় কী?

ইমনঃ ফুটবলের ঘুম ভাঙ্গাতে করণীয় বলতে আমার মনে হয় বসুন্ধরা ক্লাবের মত যদি আরো তিন চারটা ক্লাব আসে বা এই ধরনের প্রফেশনাল চিন্তা নিয়ে তারা যদি টিম করে,আমার মনে হয় না দেশের ফুটবলের ঘুম ভাঙ্গাতে খুব বেশিদিন লাগবে। আর সব চাইতে বড় কথা হচ্ছে সৎ ইচ্ছা। ফুটবলকে ভালোবেসে, ফুটবলকে আগানোর জন্য সৎ ইচ্ছেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, যেটা সবার আগে ক্লাব লেভেলের থেকে শুরু করতে হবে। তখন ন্যাশনাল টিম তার বেনিফিটটা পাবে।

টাইগার্স কেইভঃ ফুটবলের প্রতি তারুণ্যের যে অনীহা, সেই অনীহা কাটাতে তরুণদের উদ্দেশ্যে কোন পরামর্শ?

ইমনঃ তরুণদের উদ্দেশ্যে বলতে গেলে বলবো, ফুটবলে এখন ভবিষ্যত আছে, তোমরা এটাকে প্রফেশনালী নিতে পারো। এর মধ্যে নাম ডাক, টাকা পয়সা সবই আছে। তবে মূল কথা হচ্ছে, যদি ফুটবলকে ভালবাসো তাহলে ফুটবলে আসো না হলে দরকার নাই। কারণ, এখানে ভবিষতের আগে সব থেকে বড় কথা হচ্ছে ফুটবলকে ভালবাসতে হবে, ভালো যদি না বাসো তাহলে এখানে তুমি কোন কিছুই করতে পারবা না। আমার মনে হয়, এখানে টাকা পয়সা মূখ্য নয়, যদি মন থেকে ফুটবলকে ভালোবাসতে পারো তাহলে তুমি অটোমেটিক্যালি এখানে ভবিষ্যত দাঁড় করাতে পারবে।

টাইগার্স কেইভঃ কথা প্রসঙ্গেই চলে আসছে দলবদল প্রসঙ্গ। গেলো মৌসুমে রেকর্ডগড়া পারিশ্রমিকে আবাহনী থেকে বসুন্ধরায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। এবারও কি এমন কিছু হচ্ছে?

ইমনঃ হাসি… আসলে এখন পর্যন্ত আমি এই ক্লাবে সুখেই আছি আলহামদুলিল্লাহ। চ্যাম্পিয়নশীপও পেলাম, সব কিছু মিলিয়ে ভালোই আছি। আপাতত অদল বদল প্রসঙ্গে এতটুকুর বেশি আর কিছু বলতে পারছি না, এটা হয়তো সময়ের সাথে জানা যাবে।

টাইগার্স কেইভঃ আপনি যদি বাফুফে সভাপতি হতেন তাহলে কোথায় নজর দিতেন?

ইমনঃ বাফুফে সভাপতি হলে অবশ্যই ইয়ুথ লেভেলে নজর দিতাম। এটা ছাড়া ফুটবলে উন্নতি করা অসম্ভব পৃথিবীর সব দেশেই। সুতরাং সবার আগে ঐ দিকেই নজরটা দিতে হবে। আর ন্যাশনাল টিমের জন্য বেশি ম্যাচ বা দুই দেশ, তিন দেশ মিলিয়ে টুর্ণামেন্ট করার চেষ্টা করতাম। যাতে ন্যাশনাল টিম বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে পারে। তবে হ্যাঁ, ঐরকম বড় ধরনের টিম না আনতে পারলেও আমাদের সারির যারা আছে যেমন নেপাল, ভুটান এদের নিয়েই বছরে দু’একটা টুর্ণামেন্ট করার চেষ্টা করতাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here