সিলেটের প্রথম গোলকিপার হিসেবে বিপিএলে হামিদের অভিষেক

‘গোলকিপার, এ আর এমন কি’ কথাটা এমনই। ফুটবলের সবুজ গালিচায় এই খেলোয়াড়টাই থাকে সব থেকে আন্ডার রেটেড। গোলকিপারদের নিয়ে তাই তেমন কোন কথাও হয় না। না হয়, তবে আলোচনার থেকে সমালোচনাই বেশি হয়। মাঠের আট দশটা যখন পরাস্ত হয়ে যায় তখন গ্যালারি বলেন কিংবা টিভি পর্দায় সকলের চোখ আটকে যায় সেই আন্ডার রেটেড খেলোয়াড়ের উপর। কার কাছে কেমন জানি না তবে ফুটবলের সবুজ গালিচায় আমার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ গোলকিপারের।

সিলেটের দর্শকের কাছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা খানিকটা বেশিই। তার মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন সিলেটের ফুটবল গড়ার অন্যতম কারিগরি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব। যেই ক্লাবের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দলে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়াহেদ-তখলিছ-মুন্না-মতিনের মতো খেলোয়াড়েরা। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বিভিন্ন পজিশহনে বর্তমানে খেলছেন ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ বিপিএলে। তবে, সিলেটিদের দীর্ঘ দিনের আক্ষেপ ছিল জাতীয় পর্যায়ে এখনো খেলতে পারেন নি সিলেটের কোন গোলরক্ষক।

সেই আক্ষপের পালা এবার ফুরালো বুঝি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ বিপিএলে আবাহনীর বিপক্ষে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির ঘটে অভিষেক ঘটে সিলেটের ছেলে হামিদুর রহমান রিমনের। আবাহনীর বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ঘটলেও গতকাল বসুন্ধরার বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন পুরোপুরিই।

২০১৩/১৪ মৌসুমে সিলেটের জালালাবাদ ক্লাবের হাত ধরেই সিলেট প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে খেলেন হামিদ। সে বছরই বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলেছেন সিলেটের গোলাপঞ্জের ছেলে হামিদ। ২০১৫/১৬ এবং ২০১৬/১৭ এই দুই মৌসুমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ানশীপ লীগে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। সেখান থেকেই প্রিমিয়ার লীগের দল রহমত মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির নজরে পড়েন হামিদ।

সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে পঞ্চম হামিদুর রহমান রিমনের মুখোমুখি হয়েছিলেন টাইগার্স কেইভের। সিলেটের প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে প্রিমিয়ার লীগের খেলতে পারার অনুভূতি ও তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,

‘আসলে এটা সত্যিই গর্ব করার মতো যে সিলেটের প্রথম গোল কিপার হিসেবে আমি খেলছি এই পর্যায়ে। অনুভূতিটা বলে বুঝানোর মতো না। তবে, আমি আসলে এই জিনিসগুলোতে তেমন ফোকাস করতে চাই না। আমার মূল লক্ষ্য জাতীয় দলে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা কিংবা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্ব পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা। এই লক্ষ্যেই নিজের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু খেলা উপহার দিতে পারবো। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here